সিরাজুল ইসলাম আসিফ স্মৃতি পাঠাগার
পালং, মধ্যবাজার, শরীয়তপুর

(শরীয়তপুর জেলার গ্রন্থাগার পরিচিতি)

সিরাজুল ইসলাম আসিফ স্মৃতি পাঠাগার

SIRAJUL ISLAM ASIF MEMORIAL LIBRARY

পালং, মধ্যবাজার, শরীয়তপুর।

সিরাজুল ইসলাম আসিফ শরীয়তপুরসহ সারা দেশের হাজারো জ্ঞান পিপাসু মানুষের কাছে এক অনন্য প্রেরণা। আর প্রেরণা হবেই না কেন? রাজনীতি, সাহিত্য, সামাজিক কাজকর্ম সব দিকেই তার এত বেশি পরিমাণ অংশগ্রহণ ছিল যে, সাধারণ শিক্ষার্থী ও মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল অনেক অনেক বেশি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সমাজ পরিবর্তনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। মহাপুরুষ বললে হয়ত অনেকেই হাসবেন কিন্তু জগতে কিছু কিছু মহাপুরুষ সত্যি অল্প বয়সে হারায়, এই যেমন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, আসিফসহ নাম জানা না জানা অনেকে। শরীয়তপুরে সমাজ পরিবর্তনের প্রগতির আলো শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌছানোর দায়িত্ব আসিফ অল্প বয়সে কাঁধে নিলেও স্বপ্ন পূরণের শেষটা দেখার আগেই নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর এক (২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭) কালো রাত্রি তাকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছিল।

চৌকশ, বুদ্ধিমান, ভাবুক শর্ট ফিল্ম নির্মাতা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন শরীয়তপুর জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জাগো শরীয়তপুরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, রঙবেরঙ মাল্টিমিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল ইসলাম আসিফ। সাধারণ গরীব শিক্ষার্থীর জীবন চিত্র যিনি একাবিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় শর্ট ফিল্মে তুলে ধরতে শুরু করেছিলেন। যার কথা তিনি মৃত্যুর দুই দিন আগেও লিখে গিয়েছিলেন রঙবেরঙ মাল্টিমিডিয়ার গঠনতন্ত্রের প্রধান নির্বাহী পরিচালকের কথা অংশে। লেখাটায় আসিফ বলেছিলেন, তিনি যখন তার রঙবেরঙ মাল্টিমিডিয়ার ট্যাগ লাইন খুঁজতেছিলেন তখন তার বন্ধু শোভা বলেছিল ‘ঋখওগ ঋঙজ ঈঐঅঘএওঘএ ঞঐঊ ঝঙঈওঊঞণ’। আসিফ শোভার কথাটিকে রঙবেরঙ মাল্টিমিডিয়ার ¯েøাগান হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আসিফের পছন্দ খেয়াল করছেন! আসিফ কথাটিকে বাংলায় করেছিলেন ‘চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে’। পাঠাগারের প্রস্তাবক সাইফ রুদাদ কথাটিকে কোট করে একদিন বলেছিলেন আমরা আসিফের মতন এমন সুন্দর কথাকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবো। তাই পাঠাগারের ¯েøাগান করা হয়েছে এই কথাটিকে একটু ঘুরিয়ে দিয়ে ‘সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে পাঠাগার’। আসিফ ভাইয়া শোভার কথাটায় আরও বলেছিল ‘একে বারে সমাজ পরিবর্তনের কথা! বিপ্লবের কথা। হ্যা, বিপ্লবে নেমেছি।’

এবার শুনুন পাঠাগার গঠনের চিন্তা ও অন্যান্য বিষয়সমূহ নিয়ে। আসিফ মারা যাওয়ার পর শরীয়তপুরে আসিফের পছন্দের প্রায় সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আমরা যারা আসিফের দেখা স্বপ্নটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম তারাও বিভিন্ন পথে পথে বাধাগ্রস্থ হতে শুরু করছিলাম। তবু থেমে থেমে চলছিল আমাদের কার্যক্রম। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর আসিফের জন্মদিনে (১৯৯৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর) তার সমাধিস্থলে অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়া , সাইফ রুদাদ, বিকাশ মন্ডল ও অন্যান্যরা গিয়েছিলেন। তখন অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়া আসিফের মামাকে বলেছিলেন তার সমাধিস্থলের পাশে কিছু গাছ লাগানো হবে ও একটি স্মরণিকা করা হবে। কিন্তু আমরা পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বরের ঘটনা শুনে বুঝতে পারলাম সাইফ রুদাদ অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়ার প্রস্তাবে খুশি হতে পারেননি। কারণ সাইফ রুদাদ ও আমরা আসিফকে চিনতাম, জানতাম। শুধু কয়েকটি গাছ ও একটি স্মরণিকা দিয়ে আসিফকে ধারণ করা সম্ভব বলে মনে হলো না আমার। তখন থেকেই বিশেষ করে সাইফ রুদাদ ও আমাদের ভাবনা আসিফকে বাঁচিয়ে রাখতে কিছু একটা করতে হবে। তার কিছুদিন পর কয়েকজন বসলাম আসিফের বিষয়টি নিয়ে। তার নামে স্মরণিকা, পত্রিকা, পোস্টারিং, পাঠাগার ইত্যাদির প্রস্তাব আসলো। পাঠাগারের প্রস্তাবটা সাইফ রুদাদ দিলে সবাই মেনে নিল । কিন্তু পাঠাগার করতে যে খরচ, তা তো নেই আমাদের। তারপর সিদ্ধান্ত হলো অনলাইন পাঠাগার হোক, তবু হোক। গুগল ড্রাইভ দিয়ে সেটা হলো, জ্ঞান পিপাসুরা অনলাইনে ‘সিরাজুল ইসলাম আসিফ স্মৃতি পাঠাগার’ থেকে বই পড়া আরম্ভ করল। তার কিছুদিন পর প্রস্তাব হলো পাঠাগারটি অফলাইনেও করা হোক। এদিক-ওদিক, নিজস্ব বই পুস্তক দিয়ে পাঠাগারটি বাস্তবায়ন করা হলো। এরপর পাঠাগারের উদ্দোগে সাপ্তাহিক পাঠচক্রগুলো নিয়মিত হতে শুরু করল। তারপর আসিফের পরিবার থেকে অভিযোগ এলো তোমরা এটা করো, ওটা করো কই আমরা তো কিছু দেখি না। তারপর সিদ্ধান্ত হলো একটি স্মরণিকা করে আসিফের পরিবারকে দেওয়া হবে কিন্তু তা হলো না আসিফের বন্ধুরা তার স্মরণে লেখা না দেওয়ার কারণে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো পাঠাগারে কিছু বইপত্র নতুন করে কিনে পাঠাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করা হবে। আসিফের মা নিগার সুলতানাকে দিয়ে উদ্ধোধন করার প্রস্তাব আসলে আমরা তার নামে ব্যানারও করলাম কিন্তু তার অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে না পারলে সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক শফিউল বাশার স্বপনকে দিয়ে উদ্ধোধন করা হলো। উদ্বোধনের দিন শরীয়তপুরের কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, ঢাকা থেকে অতিথিসহ বিভিন্ন ধরণের গুণীজন উপস্থিত ছিলেন।
– পারভেজ সাইম, প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সিরাজুল ইসলাম আসিফ স্মৃতি পাঠাগার

প্রকৃতি: একটি বেসরকারী পাঠাগার কেন্দ্রীক জ্ঞান উন্নয়নমূলক উদারচিত্ত বিকাশের প্রতিষ্ঠান।

মূলনীতি: “চর্চা” “বিচার” “প্রগতি”
ইংরেজিতে: ““PRACTICE” “JUDGMENT” “PROGRESS””

শ্লোগান : সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে পাঠাগার।
ইংরেজিতে: LIBRARY FOR CHANGING THE SOCIETY. 

পাঠাগারের  শ্লোগানের গানের উপর ভিত্তি করে গঠনতন্ত্রের সকল ধারার প্রতি সম্মান রেখে পাঠাগারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাই হবে পাঠাগারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সিরাজুল ইসলাম আসিফ এর প্রতি সম্মান ও তার আদর্শ, বিশ্বাসের প্রতি পাঠাগার চিরদিন অনুগত থাকবে।

সিরাজুল ইসলাম আসিফ স্মৃতি পাঠাগার “শৈশব” নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে থাকে। 
যা বছরে ৩ মাস পর পর প্রকাশিত হয় প্রিন্ট ও অনলাইন ম্যাগাজিন হিসেবে।

পালং মধ্যবাজার, সদর, শরীয়তপুর-৮০০০
০১৬০১ ২৬ ০৪ ৫২।

: facebook.com/asifsritipathagar

†gBj: shoishobmag@gmail.com

 

পাঠাগারের জন্য কম্পিউটার উপহার দেন  জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান

 

আপনার মতামত দিন